Skip to main content

Journey to a Mysterious Island of the Dolls | Article 2022

Journey to a Mysterious Island of the Dolls If you have been asked to list some famous movies where doll plays an important role then sure you will list up the below movie names.  Dolls (1987) Child's Play (1988) Puppet Master (1989) Dolly Dearest (1991) Demonic Toys (1992) Dead Silence (2007) The Conjuring (2013) Annabelle (2014) Poltergeist (2015) The Boy (2016) Annabelle: Creation (2017) Yes, many of us more or less have seen the above movies but this article is not on that. This article is about an island which is full of dolls. This is neither a story nor fake gossip. This is true and real. More than 1500 dolls are available now on this island and those dolls have been collected for 50 years. Before going into the history of this island let's take some ideas of different types of dolls. Different types of dolls There have been dolls in human society for 4,000 years. We'll list a few of the many distinct kinds of dolls that exist. Corn husk doll:- Native Americans crea

বিশ্বের ধীরতম মানুষ | Father of marathon | ইতিহাসের দীর্ঘতম ম্যারাথন (Longest marathon in history)

Slowest Olympian

বিশ্বের ধীরতম মানুষ । ম্যারাথনের জনক

- © সুপম রায় (সবুজ বাসিন্দা)


ইংরেজিতে একটি প্রবাদ বাক্য আমরা সকলেই শুনেছি - "Slow and steady wins the race." ধৈর্য ধরে অবিরত কাজ করে গেলে অবশ্যই সফলতা অর্জন করা যায়। আমরা কতটুকু ধৈর্য রাখতে পারি! আজ বিশ্বের এমন একজনের কথা আলোচনা করব যিনি ৫৪ বছরের অধিক সময়ের পরে অলিম্পিক ম্যারাথনের দৌড় সম্পূর্ণ করে জয়ী হয়েছেন। এর আগে এমন ঘটনা দ্বিতীয়বার ঘটেনি। ভবিষ্যতে এমন ম্যারাথনে দৌড়ানোর সাহস কেউ করবে কিনা সেটাও ভাবা যাচ্ছে না। জীবনকে সকলেই ভালোবাসে কিন্তু এই রকমভাবে ঝুঁকি নিয়ে এতগুলো বছর ঘর ছেড়ে লাগাতার দৌড়ে বিশ্ব রেকর্ড করার বান্দা একমাত্র তিনিই হতে পারেন।

বিশ্বের ধীরতম মানুষ [World's Slowest Olympian]

বিশ্ব রেকর্ড গড়া বিশ্বের সেই ধীরতম মানুশটির নাম শিজো কানাকুরি (Shizo Kanakuri)। ২০শে আগস্ট, ১৮৯১ সালে জাপানের তামামা জেলার অন্তর্গত নাগোমি শহরে তিনি জন্ম গ্রহণ করেন। জাপানে তিনি 'ম্যারাথনের জনক' (Father of marathon) নামে পরিচিত।

১৯৬৭ সালের ২০শে মার্চ, শিজো কানাকুরি (Shizo Kanakuri) সুইডেনের স্টকহোমে একটি ম্যারাথন সম্পন্ন করেন যেটি তিনি ১৯১২ সালে শুরু করেছিলেন। সেই ম্যারাথনটি সম্পূর্ণ করতে তাঁর সময় লেগেছিল ৫৪ বছর ২৪৯ দিন ৫ ঘন্টা ৩২ মিনিট ২০.৩ সেকেন্ড। এটিকে ইতিহাসের দীর্ঘতম ম্যারাথন (Longest marathon in history) বলে জানা যায়।

শিজো কানাকুরি (Shizo Kanakuri) ধীরগতির দৌড়বিদ ছিলেন না। ১৯১২ সালের স্টকহোম অলিম্পিকে (Stockholm Olympics) যাওয়ার আগে তিনি ১৯১১ সালের ১৯শ নভেম্বরে মাত্র ২ ঘন্টা ৩২ মিনিট এবং ৪৫ সেকেন্ড সময়ে ট্রায়েলে ১ম স্থান অধিকার করেছিলেন। তিনি সকলের প্রিয় হয়ে উঠেছিলেন।

জাপান বা এশিয়ার কোনো দেশ সেইবার প্রথমবারের মতো অলিম্পিকে অংশগ্রহণ করেছিল। জাপানের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য দুজন ক্রীড়াবিদদের পাঠানো হয়েছিল, কানাকুরি সেই দুজনের একজন ছিলেন। সকলের প্রিয় হওয়া হওয়া সত্ত্বেও তাঁকে প্রথম থেকেই অনেক প্রতিকূলতার সম্মুখীন হতে হয়েছিল। তিনি ২০ বৎসর বয়সের একজন অনভিজ্ঞ দ্রুত গতির ক্রীড়াবিদ ছিলেন। স্টকহোম অলিম্পিকে (Stockholm Olympics) যাওয়ার জন্য তাঁকে কম কষ্ট করতে হয়নি! ১৯১০ সালে জাপান থেকে সুইডেনে যাওয়া খুব একটা সহজ ছিল না। ট্রেনে ১০ দিনের ভ্রমণ ছিল। জাপানের হয়ে স্টকহোম অলিম্পিকে প্রতিনিধিত্ব করছিলেন দু'জন ক্রীড়াবিদ মিশিমা ইয়াহিকো (Mishima Yahiko) এবং শিজো কানাকুরি (Shizo Kanakuri)। তাঁদের কাছে অলিম্পিকের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার সময় খুবই কম ছিল।  ট্রেনের ভ্রমণকালে এত সময় কেটে যাচ্ছিল যে তাঁরা প্রশিক্ষণের সময়ও পাচ্ছিল খুবই কম। প্রশিক্ষণের সময়ের জন্য তাঁরা ট্রেনের স্টেশনগুলোকে খুঁজে নিয়েছিল। ট্রেনের সেই ১০ দিনের  ক্লান্তিকর ভ্রমণকালে তাঁরা যখনই ট্রেন থামার জন্য স্টেশন পেত তখনই প্রশিক্ষণের জন্য নেমে পড়ত। এইভাবে প্রতিটি স্টেশনের চারপাশে দৌড়াত। ট্রেনের এই যাত্রাকালে কানাকুরিকে আরও একটি অপ্রত্যাশিত দায়িত্ব নিতে হয়েছিল যখন তাঁর সতীর্থ, মিশিমা ইয়াহিকো (Mishima Yahiko) অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। ইয়াহিকোর যত্ন নিতে গিয়ে তাঁর প্রশিক্ষণের সময় আরও কমে গিয়েছিল।

যখন রেসের দিন আসে (১৪ জুলাই ১৯১২), তখন এই ম্যারাথন দৌড়বিদের পক্ষে ভাগ্য সঙ্গ দিচ্ছিল না কারণ সেই দিন তাপমাত্রা 32°C (89.6°F) বেড়ে গিয়েছিল। ট্রেনের একটানা ক্লান্তিকর যাত্রা, তাঁর সতীর্থের যত্ন নেওয়া ও প্রতিটি স্টেশনে প্রশিক্ষণের পরে যখন সুইডেনে এসে পৌঁছেছিলেন তখন একবিন্দু বিশ্রাম নেওয়ার সময় পায়নি এবং পুষ্টিকর খাবারও জোটেনি। এর পরেও তিনি মনোবল নিয়ে অন্যান্য ক্রীড়াবিদদের সাথে সেই ম্যারাথনে সারিবদ্ধ হয়েছিলেন। তিনি মানসিক চাপ এবং ভয়ও অনুভব করছিলেন একই সাথে কারণ বিশ্বের প্রধান ক্রীড়া মঞ্চে জাপান প্রথমবার অংশগ্রহণ করেছিল এবং দেশের হয়ে তিনি প্রতিনিধিত্ব করছিলেন।


Shizo Kanakuri


কীভাবে জাপানের 'ম্যারাথনের জনক' নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিল?

কানাকুরিকে দেখার জন্য তাঁর প্রশংসনীয় মনোভাব যথেষ্ট ছিল না যদিও দৌড়ের সময় অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং একটি স্থানীয় পরিবার তাঁকে নিয়ে যায়। যখন তিনি সুস্থ হয়ে উঠলেন তখন তিনি ২টি কঠিন সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হলেন: (১) কর্মকর্তাদের কাছে গিয়ে স্বীকার করবেন যে তিনি ব্যর্থ হয়েছেন, অথবা (২) কাউকে না জানিয়ে ছদ্মবেশে বাড়ি ফিরে যাবেন। তিনি তাঁর দেশের বিশ্বব্যাপী খ্যাতির কথা ভেবে এবং ভয় পেয়ে দ্বিতীয় সিদ্ধান্তটি বেছে নিয়েছিলেন কারণ এটিই ছিল তাঁর দেশের প্রথম অলিম্পিক উপস্থিতি। ৬৯ জন প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করেছিল সেই অলিম্পিকে। পরবর্তীতে জানা যায় মাত্র ৩৫ জন ম্যারাথনটি সম্পন্ন করতে পেরেছিল।

দেশে ফিরে কানাকুরি ঘরোয়া খেলাধুলার প্রতি তার মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করেন। তিনি জানতেন যে জাপান অন্যান্য দেশের তুলনায় ব্যাপকভাবে পিছিয়ে এবং পরবর্তী খেলাধুলাগুলোতে অংশগ্রহণ করার মতো প্রস্তুত নয়। তিনি তখন টোকিও-হাকোন কলেজ একিডেন রেসের (Tokyo-Hakone College Ekiden Race) প্রতিষ্ঠার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। জাপানে শিক্ষার্থীদের জন্য ডিজাইন করা রিলে রেসকে দূর-দূরান্তের এই দৌড়কে জনপ্রিয় করার জন্য তাঁকে কৃতিত্ব দেওয়া হয়েছে।

তিনি বেলজিয়ামে ১৯২০ সালের এন্টওয়ার্প অলিম্পিকে (Antwerp Olympics) ১৬তম স্থান অধিকার করেছিলেন এবং ফ্রান্সে ১৯২৪ সালের প্যারিস অলিম্পিকে (Paris Olympics) তিনি শেষ করতে ব্যর্থ হন। নিজ দেশে তিনি জাপানি ম্যারাথনের জনক (Father of the marathon) হিসাবে পরিচিত ছিলেন, কিন্তু সুইডেনে তিনি নিখোঁজ ম্যারাথনবিদ হিসাবে পরিচিত ছিলেন।

কি করে অর্ধ শতাব্দীরও বেশি সময়ের পরে তিনি সেই ম্যারাথনটি শেষ করার সুযোগ পেলেন?


অবশেষে ১৯৬৭ সালে নিখোঁজ ম্যারাথনবিদের রহস্যটি সমাধান করা হয়েছিল যখন টিভি চ্যানেল Sveriges টেলিভিশন (সুইডিশ টেলিভিশন) জাপানের কুমামোটো প্রিফেকচারের তামানাতে ৭৫ বৎসর বয়সের এক বৃদ্ধকে ট্র্যাক করেছিল যেখানে তিনি তার অবসর উপভোগ করছিলেন।

তারা একটি আকর্ষণীয় প্রস্তাব নিয়ে তাঁর কাছে এসেছিল। তাঁকে তারা প্রশ্ন করেছিলেন - তিনি কি অলিম্পিক ম্যারাথন শেষ করতে চান যা তিনি অর্ধ শতাব্দীরও বেশি আগে শুরু করেছিলেন? কানাকুরি সম্মত হন এবং ১৯৬৭ সালের মার্চ মাসে তিনি স্টার্ট লাইন অতিক্রম করার ৫৪ বছর পর ফিনিশ লাইনের উপর দিয়ে দৌড়ে যান এবং এটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ইতিহাসের সবচেয়ে ধীর ম্যারাথন হিসেবে গড়ে তোলে।

কানাকুরি সেই ম্যারাথন শেষ করার পর প্রেসকে বলেছিলেন -

"এটি একটি দীর্ঘ সফর ছিল। সেই সফরে থাকাকালীন আমার বিয়ে হয়েছিল, ছয়জন সন্তান হয়েছিল এবং পরে দশজন নাতিনাতনি হয়েছিল।"

১৯৮৩ সালে, ৯২ বৎসর বয়সে তিনি পরলোক গমন করেন। জাপানের মধ্যে অ্যাথলেটিক্সের বিকাশে তাঁর বিশাল অবদানের জন্য চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।


তথ্য সহযোগিতায় - গিনিস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড এবং উইকিপিডিয়া

Comments